বৌদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবসমূহের মধ্যে মাঘী পূর্ণিমাও গুরুত্বপূর্ণ। এ পূর্ণিমার সঙ্গে বুদ্ধের জীবনের অনেক ঘটনা জড়িত আছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মহাপরিনির্বাণ লাভের ঘোষণা। এ তিথিতে বুদ্ধ নিজের আয়ু সংস্কার বিসর্জন বা মহাপরিনির্বাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সময় তিনি বৈশালীর চাপাল চৈত্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি ভিক্ষুসঙ্ঘকে বলেছিলেন, 'এখন হতে তিন মাস পর আগামী বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে আমি পরিনির্বাণ লাভ করব।' এভাবে নিজের জীবন অবসানের দিনক্ষণ ঘোষণা করা সাধারণের জীবনে বিরল। জগতে হয়তো আর দ্বিতীয়টি নেই।
স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বুদ্ধের জীবন অবসানের ঘোষণার জন্য এই দিনটি শোকের বা দুঃখের মনে হতে পারে। কিন্তু বুদ্ধের ধর্ম ও দর্শনের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে এটি মহৎ ও মহান একটি দিন। কারণ বুদ্ধ বলেছেন, উৎপন্ন সকল কিছুরই বিনাশ অনিবার্য। অর্থাৎ জন্ম হলেই মৃত্যু হবে। জগতের সকল কিছুই অনিত্য ও অনাত্মা নিয়মে বাঁধা। বুদ্ধ এই সত্যকে সাধনা ও প্রজ্ঞা দ্বারা আবিষ্কার করেছিলেন। নিজের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে তিনি সম্যক দৃষ্টিতে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই তিনি তাঁর আয়ু সংস্কার ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
অন্য সকল পূর্ণিমা উৎসবের মতো মাঘী পূর্ণিমার অনুষ্ঠানমালাও খুব সকাল থেকে শুরু হয়। এ অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল ও উপোসথশীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, সমবেত উপাসনা, দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এছাড়া ধর্মালোচনা, সান্ধ্যকালীন বন্দনা ও পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদিও আয়োজন করা হয়।
Read more